সর্বপ্রথম তাবলীগ জামাত।



তাবলীগ জামাতের নমুনা ছবি

মাওলানা ইলিয়াস সাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি এর মাধ্যমে দাওয়াত তাবলীগের কাজ শুরু করার পূর্বে তখনকার সময়ের বিশিষ্ট ওলামা কেরাম এর সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি তা চালু করেন। মুফতি কেফায়াতুল্লাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি হুসাইন আহমদ মাদানী রহমাতুল্লাহ প্রমুখ ওলামা হযরত তখনকার সময়ে যাদেরকে উপমহাদেশে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হতো । তাদের সাথে একান্ত পরামর্শক্রমে এ কাজের সূচনা করেন সর্বপ্রথম মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেব এর নিকট গমন করে তার পূর্বপরিকল্পনা সম্পূর্ণ তুলে ধরেন মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেবর কাছে সবকিছু আদি অন্তশুনে বলেন ।
আপনি যে নিয়ম পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন তা তো সম্পূর্ণ সাহাবায়ে কেরাম ও নবতি মেহনতের নমুনা মনে  হইতেছে। তবে এসময় সম্পূর্ণ নিজের জানমাল খরচ করে কে এই কাজ করবে কাজ করার লোক থাকবে না মুফতি সাহেবের কথা শুনে মাওলানা ইলিয়াস সাহেব কিছু না বলে সোজা মেয়া‌ওত জেলা উত্তর পশ্চিম ভারতের হরিয়ানা প্রদেশের একটি জেলা শহর চলে যান এবং সেখানে প্রায় এক সপ্তাহ খেয়ে নাকে মেহনত করেন।
 লোকদেরকে যখন আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়ার কথা বলেন তখন তারা  বলতে লাগলো মাওলানা ইলিয়াস সাহেব আপনি কি বলতেছেন আমরা আমাদের চাষাবাদ মহিষ গরু ছাগল ইত্যাদি ছেড়ে কি করে আপনার সঙ্গে আল্লাহর রাস্তায় বের হতে পারি? এদিকে ইলিয়াস সাহেবের  বাপ দাদা ছিলেন সহি তরিকার পীর সেই সুবাদে তাদের মেওয়াত যাওয়া-আসা ছিল পূর্ব থেকেই ।
তাই মাওলানা ইলিয়াস সাহেব বাপ দাদার সম্পর্কের কারণে মে‌ওয়াত জেলা উত্তাতর-পশ্রচিম ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে আসা যাওয়া ছিল এবং তাদের সাথে ভালো একটা সম্পর্ক ছিল তাই তাদের পিছনে মেহনত করেন প্রায় এক সপ্তা মেহনত করে ১০-১২ জনের একটি জামাত বের করে সোজা দিল্লি নিজামুদ্দিন মসজিদ এ চলে যান সেখান থেকে তাদেরকে মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেব এর নিকট পাঠান এবং বলে দেন তোমরা সেখানে যাওয়ার পর তিনি তোমাদেরকে এইসব প্রশ্ন করতে পারেন ।তোমরা কোথা থেকে এসেছো কেমন আছো কেন আসছ?  কে তোমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে।  তখন তোমরা বলবে আমরা মেওয়াত থেকে এসেছি নিজের জান মাল নিয়ে দ্বীন শিখতে এসেছি ইলিয়াস সাহেব আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছেন আরো বলে দেন তিনি একজন বড় মাপের আলেম উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মুফতি সাহেব সুতরাং তোমরা তার সাথে কোন প্রকার বেয়াদবি করবে না তার প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখবে বেয়াদবি যেন না হয়। অতঃপর তারা সেখানে যাওয়ার পরও হুবহু ওই কথাবার্তাই মাওলানা ইলিয়াস রহমাতুল্লা বলে দেন তাদের কথা শুনে মুফতি কেফায়াতুল্লাহ সাহেব খুব খুশি হন বাহ বাহ বলতে থাকেন আর বলেন পাগল তো নিরাশা কে আশায় পরিণত করে দিল ।অতঃপর তাদেরকে সম্বোধন করে বলেন যাও তোমরা এ কাজ করো এ কাজ সাহাবায়ে কেরামের মেহনতের ওপর রয়েছে তোমাদের কোথাও কোনো সমস্ হলে আমাকে জানাবে আমি দেখব।  এই জামাটি সর্বপ্রথম জামাত ১৯২৬ সালে মাওলানা ইলিয়াস সাহেবেরমেহনতের বদৌলত বের হয় তিনি সে জামাটি উপমহাদেশের শ্রেষ্ঠ মুফতি আল্লামা রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর সঙ্গে পরামর্শক্রমে তা চালু করেন ।  (মাওলানা রবিউল হক সাহেবের বয়ান থেকে সংগৃহীত ২০১৭ নরসিংদী ইজতেমা থেক )

No comments

Powered by Blogger.